ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের প্রধান রোনেন বারকে অপসারণে সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির পার্লামেন্ট। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ আগামী ১০ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। এদিকে, বারের অপসারণ নিয়ে তিনদিন ধরে বিক্ষোভ করছেন ইসরায়েলিরা। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
চলতি সপ্তাহে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, রোনেন বারের ওপর থেকে আস্থা হারিয়েছেন তিনি। এজন্য তার অপসারণের কথা বিবেচনা করা হয়েছে। ২০২১ সাল থেকে শিন বেটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাতে নেতানিয়াহুর বাসভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভকারীদের হটাতে জলকামান ব্যবহার করেছে পুলিশ। তেল আবিব ও জেরুজালেমে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে পুলিশ। এসময় কয়েক ডজন মানুষকে আটক করা হয়। বারের অপসারণে বিক্ষুব্ধ জনতা ও গাজায় পুনরায় হামলা শুরু করা ক্রুদ্ধ ইসরায়েলিরা গত তিনদিন ধরে যৌথভাবে আন্দোলন পরিচালনা করছে।
গোয়েন্দা প্রধানের অপসারণের নেপথ্যে একটি দুর্নীতিবিরোধী তদন্ত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের একাধিক কর্মীর বিরুদ্ধে কাতারের পক্ষ থেকে উৎকোচের প্রস্তাব পাওয়ার একটি অভিযোগ থেকে ওই তদন্তের সূচনা। এই নিয়ে নেতানিয়াহু ও বারের মধ্যে বিগত কয়েকমাস ধরেই সম্পর্ক শীতল হতে থাকে।অবশ্য, ঘুষের প্রস্তাবের অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক বলে প্রত্যাখান করেছেন নেতানিয়াহু। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে এই ঘটনা ঘিরে বারকে অপসারণ করায় সমালোচকরা বলেছেন, এভাবে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে ফেলছেন নেতানিয়াহু।
সরকারকে লেখা চিঠিতে বার দাবি করেছেন, স্বার্থের দ্বন্দ্বের কারণে তাকে অপসারণ করা হচ্ছে। দেশের স্বার্থ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক অগ্রহণযোগ্য কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগেই অবশ্য স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন রোনেন বার। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে অনুপ্রবেশ করে হামাসের হামলা চালানোকে গোয়েন্দা ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন তিনি।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন